পুলিশ আমাকে তিনদিন গোপন করে রেখেছিল। নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। কারো সাথে কথা বলতে দিতনা।সেখান থেকে অসুস্থ অবস্থায় কারাগারে প্রেরণ করে।আমি একা হাটতে পারতাম না কারণ ছাত্রলীগ এর অস্ত্রের আঘাতে পায়ে ভর দিয়ে হাটতে পারতাম না।ফারুক হাসান আমার সাথে ছিল তাকে ধরে ধরে ভিতরে ঢুকলাম। ঢুকে একটা জায়গায় নিয়ে গেল তার নাম আমদানি । ওখান থেকে নিয়ে গেল মেডিকেল (কারাগারের ভিতর)। ঐরাত মেডিকেল এর একটা রুমে ফ্লোরে ছিলাম। পরের দিন ডাক্তার দেখানোর পর ঔষধ দিল(সব রোগীর জন্য একই ওষুধ) এবং একটা ওয়ার্ডে দিল।ফারুক ও অসুস্থ ও কে অন্য ওয়ার্ডে দিল।তখন থেকে ১০৩ ডিগ্রি + জ্বর কিছুই খেতে পারতাম না।কারো সাহায্য ছাড়া ওয়াশরুমে পর্যন্ত যেতে পারতাম না।ওয়ার্ডে যারা ছিল আমার সম্পর্কে জানার পর ছাত্রনেতা বলে ডাকত। একরাতে ১০৪ ডিগ্রি জ্বর ছিল। আমি বেহুঁশ একভাই ছিল তারনাম ওমর ফারুক (স্বর্ণের মামলা আসামি) ওনি প্রচুর যত্ন নিল।পরের দিন একটু সুস্থ। নামাজ পড়ার সময় শুধু কান্না আসত।একদিন আমার মামা দেখতে গেল তার সামনে এমন এক্ট করলাম যেন আমি সুস্থ! শুধু মাকে যেন বলতে পারে আমি ভাল আছি!মামা টাকা পাঠাল কিন্ত আমি কিছুই খেতে পারতাম না!ওখানে মশিউর, মাহফুজ দের সাথে দেখা হল!তখন ভাল, খারাপ দুটোই অনুভুতি হল।রাতে ঘুমাতে পারতামনা পায়ের মন্ত্রনায়! পা দুটি কে ভাজ করে এক কাত হয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করতাম। পায়ের যন্ত্রণা, ১০৪ ডিগ্রি জ্বর সে অবস্থায় আদালত এ হাজির করল সবাইকে।আমার অবস্থা এতই খারাপ ছিল যে আসামি দের গ্রহণ রিসিভ করে তিনি বলল এই রকম অসুস্থ আসামি কে আমি কিছুই করতে পারবো না তাকে কারাগারে প্রেরণ করে চিকিৎসা দেওয়া হোক।পরে কোর্টে তুলল। আমি দাড়াতে পারিনি, বসেছিলাম কাঠগড়ায়! আমাদের আইনজীবীদের শুনানি শুনে মনে করছিলাম জামিন হয়ে যাবে! কিন্ত পরে শুনলাম তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর! একদিকে পায়ের যন্ত্রণা +জ্বর অন্যদিকে রিমান্ড! সবকিছু মিলে মনে হচ্ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় ব্যক্তি আমি যার কেউ নাই!তারমধ্যে খবর আসে মা আমাকে মারার ভিডিও দেখে ফেলে এবং দুদিন অজ্ঞান ছিল! রিমান্ডের খবর শুনে পাগল এর মত হয়ে গেছিল! মা মনে করেছিল রিমান্ডে ছেলেকে মেরে ফেলবে!!রিমান্ডে নিয়ে যাওয়ার আগের দিন নিচে স্বাক্ষর দিয়ে কিছু কিনতে গেছিলাম! স্বাক্ষর দেওয়ার জন্য কলম হাতে নিয়ে শুধু জ লিখে আর কিছু করতে পারছিলাম না! চোখ বন্ধ হয়ে এল মনে মনে কালেমা পড়লাম, মনে হচ্ছিল পৃথিবী থেকে বিদায় নিচ্ছি!একদিকে ঢলে পড়তেছি ঠিক তখনই তারিকুল কোথা থেকে আসল আমাকে ধরে সিটে নিয়ে গেল! না হয় সেদিন জীবনের শেষ দিন হত!আমাকে সিটে শোয়ানো হল, ফারুক, মশিউর দেখতে আসল কিন্ত কারো সাথে কথা বলতে পারছিনা! শুধু মনে মনে মা মা করতেছি!চিন্তা হচ্ছে মায়ের জন্য।আমার জীবনের প্রদীপ নিভে গেলে মায়ের কি হবে! আমাকে নিয়ে মায়ের কত স্বপ্ন! মা তো বলে তোর খারাপ কিছু হলে মনে করবি আমি আর পৃথিবীতে নাই!!আমাকে মারার ভিডিও দেখে মা কত কিছু মান্নত করেছে ছেলের সুস্থতার জন্য তার হিসাব নাই! যাই হোক একদিন বিকাল বেলা নিয়ে গেল রিমান্ডে! তখনও জ্বর +হাটতে সমস্যা! রিমান্ডে একদিন পর দেখা হল সোহেল এর সাথে!সোহেল কি করে এখানে? সোহেল বলল ডিজিএফাই ধরে নিয়ে আসছে। রিমান্ড শেষে আদালত এ সময় শাহবাগ দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল তখন মনে হল এই শাহবাগে কত স্লোগান দিছি!এখন আসামি!! পরে আস্তে আস্তে সুস্থ হলাম। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম একবার নয় কারাগারে বারবার আসব তবুও অন্যায়ের,বৈষম্যের বিরুদ্ধে আজীবন লড়াই করে যাব।

আলমগীর হোসেন