এ আড্ডা নিয়ম করে প্রতি মাসে সাহিত্য-আসর করে বেথেসডা, মেরিল্যান্ডে। উপস্থিত থাকেন ওয়াশংটন, মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়া অঞ্চলের সাহিত্য ও সংস্কৃতিকর্মীরা। নিজেদের নিয়মিত আড্ডার বাইরে বাংলাদেশ থেকে কোনো সাহিত্যিক আচমকা এ অঞ্চলে বেড়াতে এলে তাকে কেন্দ্র করেও জমে ওঠে অনির্ধারিত আসর। নিখাদ আড্ডার সঙ্গে নিজেদের লেখা থেকে পাঠ, সমালোচনা, বহুমুখী বিষয়ে বিতর্ক, গান-আবৃত্তি মিলিয়ে এক অভূতপূর্ব আন্তরিক পরিবেশ তৈরি করেন তারা। এই লেখাটি তাদের আসরের কিঞ্চিত বয়ানমাত্র।
এ কথা এখন সবাই মানেন যে, এক কালের ঘরকুনো বা মায়ের আঁচলে বাঁধা পড়ে থাকার আপবাদ ঘুচিয়ে, বাঙালি আজ বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে। আঠার বা উনিশ শতকে খুব অল্প সংখ্যক বাঙালি দেশান্তরী হবার দুঃসাহস দেখালেও, গত শতাব্দীর শেষে বাঙালি পাড়ি জমিয়েছে মহাদেশ থেকে মহাদেশে।আর যেখানেই তারা গেছে, সেখানেই বেশ শক্তপোক্তভাবে বসতি গড়েছে। নতুন দেশের জলে-মাটিতে নিজেকে সুস্থির করে, বিস্তার করেছে শাখাপ্রশাখাও। ফলে যে বিভূঁইয়েই বাঙালি বাস করুক না কেন, সেখানেই খুঁজে পাওয়া যাবে একটুকরো বাংলাদেশকে। প্রবাসের সে এক টুকরো বাংলাদেশে ভূগোলের বাংলাকে হয়ত পাওয়া যায় না। কিন্তু দেশের প্রাণকে ছোঁয়া যায় অনায়াসেই।

সে বাংলাদেশে, মায়ের ভাষায় প্রাণ খুলে কথা বলা যায়, অবশ্যই সব আঞ্চলিকতাসহ, কেনা যায় দেশি আনাজপাতি। খুঁজলেই মিলে যায় পান সুপারি থেকে পাবদা-ইলিশ, কাঁঠালের বিচিসহ কচুর লতি, লকলকে পুঁই ডাঁটা ও লালশাকের আটি। নাটোরের কাঁচাগোল্লা বা বাঘাবাড়ির ঘি কোনটাই এখন আর বাঘের চোখ নয় যে প্রবাসে মেলে না। এখানে ওখানে চোখে পড়ে বিস্তর বাংলা সংবাদপত্র। সেখানে ঠাসা থাকে ভালমন্দ মেলানো বাংলাদেশের খবরাখবর, আর সঙ্গে বাড়তি পাওনা নেতা-নেত্রী বা অভিনেতা-অভিনেত্রীর রঙিন ছবি।তাছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে দূরের মানুষ আর কাছের মানুষের ভৌগোলিক দূরত্বও এখন প্রায় বিলীন। বাংলাদেশের মানুষের হাতে ভোর-সকালে খবরের কাগজ পৌঁছুনোর আগেই, উত্তর আমেরিকার মানুষ জেনে যায় সব সংবাদ। দেশের কোন কিছু বাসি হবার আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পৌঁছে যায় সব মহাদেশে। তাই বসবাসসূত্রে অন্য দেশের নাগরিক হলেও বিশ্বময় ছড়ানো বাঙালি মনেপ্রাণে ধারণ করে বাঙালিত্ব, ঘরে বাইরে লালন ও চর্চা করে বাঙালি সংস্কৃতি। আর সুযোগ পেলেই তারা বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য ও বৈভব বিভাষী বা ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সামনে গর্বভরে তুলে ধরে।

বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত থাকার এই মানসিকতা থেকেই প্রবাসী বাঙালিরা এখন লক্ষণীয়ভাবে বাংলা সাহিত্যচর্চায় উদ্যোগী হয়েছেন। সাহিত্যের অঙ্গনে প্রবাসী বাঙালি লেখকদের উপস্থিতি এখন আর অগ্রাহ্য করার মতো নয়। বিদেশে বসবাস করলেও অনেক প্রবাসীই বাংলাদেশের দৈনিক-সাপ্তাহিক বা সাময়িকীতে লিখছেন গল্প-কবিতা বা প্রবন্ধ। অনেকে নিয়মিত কলাম লিখছেন। অর্থাৎ সব অর্থেই প্রবাসী বাঙালিরা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় আন্তরিকভাবে যুক্ত রয়েছেন।সেই আন্তরিকতার একটা আশাব্যঞ্জক প্রমাণ মিললো এবারের একুশে বইমেলায়। পত্রিকা থেকে জানা গেলো, এ বছর একুশে বইমেলায় প্রবাসী বাঙালিদের লেখা দুই শতাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে। সাহিত্যের সব শাখাতেই প্রবাসী লেখকেরা সমানভাবে তাদের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন এবং পাঠকেরাও তা সাদরে, কখনো কখনো হয়তো অনাদরে, গ্রহণ করছেন। অন্ততপক্ষে দেশের পাঠকরা জানতে পারছেন এসব প্রবাসী বাঙালি লেখক সম্পর্কে, তাদের কাজ সম্পর্কে এবং বাংলাসাহিত্যের প্রতি তাদের প্রবল উৎসাহ সম্পর্কে। একুশে বইমেলায় প্রকাশিত ওই বইগুলো এই জানা ও জানানো প্রক্রিয়ারই একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কিন্তু কী লিখছেন বা কী নিয়ে লিখছেন এসব পরবাসী সাহিত্যকর্মীরা? তারা যে উপন্যাস লিখছেন, বা যে কবিতা লিখছেন কী তার বিষয়বস্তু? এসব লেখা কি বাংলাসাহিত্যেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ? নাকি চারিত্রগতভাবে সেগুলো হয়ে উঠছে ডায়াসপোরা সাহিত্য? তাদের লেখার পটভূমি বা পরিপ্রেক্ষিত কি বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ? নাকি প্রবাসের জীবন, এক অচেনা সংস্কৃতিতে নিজেকে মানিয়ে বা খাপ খাইয়ে নেয়ার কষ্টকর চেষ্টা, প্রবাসীদের স্বপ্নপূরণ ও স্বপ্নভঙ্গের আনন্দ ও যন্ত্রণা লেখায় তুলে আনছেন তারা? নাকি, ভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক পরিবেশে বাঙালি হিসেবে নিজেদের আত্ম-পরিচয়ের সংগ্রাম ও সংঘাতের কথা বলছেন তারা?

এসব প্রশ্নের খানিকটা উত্তর পাওয়া গেল এ মাসের বাংলাঘরের আড্ডায়। এ মাসের আড্ডায় উপস্থিত লেখকদের অন্তত চারজনের বই প্রকাশিত হয়েছে একুশের বইমেলায়। তারা হলেন- আনিস আহমদ, মাহবুব হাসান সালেহ, আশীফ এন্তাজ রবি ও মোস্তফা তানিম।
আনিস আহমদের দুটো কবিতার বই ‘বৃষ্টি ও তুমি’, ‘জ্যোৎস্নার জলে জ্বর’ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে মাহ্‌বুব হাসান সালেহ্‌র একটি কবিতার বই ‘অপরূপা’ এবং আশীফ এন্তাজ রবির একটি উপন্যাস ‘চন্দ্রমুখী’। মোস্তফা তানিমের একটি সাইন্স ফিকশন ‘রিংটোন এবং রং নাম্বার’ ও বিটকয়েন সম্পর্কিত আরেকটি তথ্যমূলক বই ‘বিটকয়ে-  ব্লকচেইন এবং অন্যান্য মুদ্রা’ প্রকাশিত হয়েছে। এ তথ্য থেকেই বোঝা যায়, প্রবাসী লেখকেরা স্বচ্ছন্দ্যেই সাহিত্যের সব শাখাতে নিজেদেরকে মেলে ধরছেন।এক সময় ছিল যখন বিদেশে বেড়াতে গিয়ে নতুন দেশ নতুন সংস্কৃতি নিয়ে বাঙালি ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা লিখতেন। রবীন্দ্রনাথ এবং তার আগে ও পরে অনেকেই এ ধারার সাহিত্যে মুন্সীয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানের প্রবাসী লেখকেরা ভ্রমণকাহিনীতে আটকে থাকতে চান না। কারণ ভ্রমণকাহিনীতে সাধারণভাবে একটি দেশের ওপরিতলের কথাই বেশি থাকে। পর্যটকের অনভ্যস্ত চোখে সহজেই ধরা পড়ে নতুন দেশের চাকচিক্য, দর্শনীয় স্থানের বিস্ময়, পথচলতি মানুষ, কখনোবা তাদের আচার আচরণ।কিন্তু অমন পথচলতি দেখা প্রবাসী লেখকদের মূল আকর্ষণের এলাকা নয়। অভিবাসী বাঙালি লেখকেরা নতুন দেশের চাকচিক্যের আড়াল সরিয়ে সমাজের অন্তরকে বা বাস্তবতাকে দেখার চেষ্টা করেন। তাই বাংলাঘরের আড্ডায় যে সব লেখা পঠিত হলো, তাতে যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে পর্যটকের মতো পথচলতি অভিজ্ঞতা বর্ণনার কোন ইচ্ছে কারো লেখায় দেখা গেল না।

দেখতে না পাবার কারণ হয়তো এটা যে, এসব পরবাসী লেখকেরা মার্কিন অভিবাসী হিসেবে দেশটাকে বুঝতে চাইছেন অন্যভাবে। অভিবাসীরা আসলে প্রতিদিন এক একটি নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, নিজেকে প্রতিমুহূর্তে পরিবর্তন করেন অথবা নিজেকে নতুন সমাজ ও সংস্কৃতির উপযোগী করে তোলেন। আর ওই পরির্তন প্রক্রিয়ায় যে অভিবাসী শুধু নিজেরই পরিবর্তন ঘটান তা নয়, সে তার চারপাশের সংস্কৃতি ও সমাজেরও পরিবর্তন ঘটায়।তাত্ত্বিক ও সমালোচক লীলা গান্ধী এই পরিবর্তনকে বলেছেন ‘পারস্পরিক রূপান্তর’। কারণ অভিবাসী যে দেশে বসতি গড়ে, সেই দেশের ও সংস্কৃতির গায়েও অভিবাসীর কারণে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগে। এই পারস্পরিক পরিবর্তনের অভিজ্ঞতাই পাওয়া গেল বাংলাঘরের আড্ডায় পঠিত লেখাগুলোতে, যা কিনা ডায়াসপোরা সাহিত্যের একটা বড় বৈশিষ্ট্য।ডায়াসপোরা সাহিত্য এক সময় বেশিরভাগই রচিত ও প্রকাশিত হয়েছে ইংরেজি বা অন্য কোন য়্যুরোপীয় ভাষায়। কারণ সেগুলোর রচয়িতা ছিল প্রথম প্রজন্মের অভিবাসী মার্কিন বা য়্যুরোপীয় লেখক। তাদের বেড়ে ওঠায় বাংলা বা অন্য ভারতীয় ভাষা খুব বেশি প্রভাবিত করতে পারেনি। ঝুম্পা লাহিড়ি, মনিকা আলী বা একালের তাহমিনা আনাম এদের সবাই মূলত লিখেছেন ইংরেজিতে এবং তাদের উদ্দিষ্ট মূলত পশ্চিমাপাঠক।অন্যদিকে কেতকি কুশারী ডাইসন তার নোটন নোটন পায়রাগুলো উপন্যাসে যেভাবে পশ্চিমা সংস্কৃতির সঙ্গে বাংলা সংস্কৃতির সংঘাত ও সমন্বয় বাঙালি পাঠককে দেখিয়েছেন, বর্তমানকালের বেশিরভাগ প্রবাসী বাঙালি লেখক সে পথেই হাঁটছেন। তারা বাঙালি পাঠকের সামনে প্রবাসী জীবনের অন্য এক বাস্তবতাকে তুলে ধরতে চেষ্টা করছেন, যা বাঙালি পাঠকের কাছে এতকাল প্রায় অজানাই ছিল।

বাংলাঘরের আড্ডায় পঠিত লেখাগুলোর আর একটি বৈশিষ্ট্য যা সবারই নজড়ে পড়েছে, তা হলো জন্মভূমির জন্য লেখকদের অবিরল স্মৃতিকাতরতা। এটাও ডায়াসপোরা সাহিত্যের একটা বড় বৈশিষ্ট্য। সে স্মৃতির একটা বড় অংশ জুড়ে থাকে বন্ধু-স্বজনের উপস্থিতি, শৈশব-কৈশোরের আনন্দময়তা আর থাকে বিচ্ছিন্নতার বিষাদ। জন্মভূমি যেন প্রতিটি প্রবাসীর মানসিক কেন্দ্র আর প্রবাসী মাত্রেরই অবস্থান প্রান্তে।
সুতরাং প্রান্ত সব সময় চেষ্টা করে কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত হতে। আশীফ এন্তাজ রবির একটা কবিতায় তেমন কয়েকটি লাইন- “আমেরিকায় বসে বসে কি করো তুমি?”/এখানে আমি মেঘের দায়িত্বে আছি/ দিনমান বয়ে বয়ে/ কত আকাশ থেকে/ কত রঙ পেড়ে/ আমি মেঘ বুনি….এর বাইরে-/ ভোর রাতে স্ট্যাচু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকি ডুপন্ড সার্কেলে/ আমি আছি বলে হরিণগুলো পথ হারায় না/ কাঠবিড়ালি খুঁজে পায় সবুজ বিছানা/ পাইনগাছগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে/ আমিই ওদের শোনাই পুঁজিবাদের গল্প/ আর ঘাসের কানে দিই বিপ্লবের মন্ত্র… এর বাইরে -/ কত মেঘ, কত আকাশ/ কত রঙ আর আলো/ কত ঠাণ্ডা তুষারকণা/ কত পুরনো আগুনের ওম/ তোমার কাছে পাঠাই/ প্রিয় বাংলাদেশ/ প্রিয় সোনামানিক/ তুমি কি তা দেখো না?”সেদিনের আড্ডায় বেশ কিছু লেখায় ঘুরে ফিরে এসেছে স্বাধীনতাযুদ্ধ প্রসঙ্গ। আশফাক নুমান, আনোয়ার ইকবালের লেখায় স্বাধীনতাযুদ্ধের সঙ্গে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্মৃতিকারতাও বারবার উচ্চারিত হয়েছে। জন্মভূমিকে ঘিরে এই স্মৃতিকাতরতাও ডায়াসপোরা সাহিত্যের অন্যতম উপাদান।
আনোয়ার ইকবালের কবিতার কয়েকটি লাইনে ধরা পড়েছে স্বাধীনতাযুদ্ধে তার পিতার শহীদ হবার স্মৃতি-

“আজানের ধ্বনি ছুঁয়ে ছুঁয়ে,/ এসেছিলো রাতজাগা ভোর/ নেপথালিনের গন্ধে জড়ানো/ পাটভাঙা কাফনের কাপড়/ মুড়ে, বৃষ্টি জর্জর দুপুরে/ কাদামাটি খুঁড়ে/ সমাপ্ত সারাটি বেলার হাঁটাহাঁটি;/ ভেজা বাতাসে উড়ে গিয়েছিল/ কলিমার স্বর/ এরই মাঝে হয়েছিল আমার/ বাবার কবর;/ সে এক বহমান বিপ্লবের কালে,/ সেই উনিশ শ’ একাত্তুর সালে।”

এই লেখার বাইরেও আসরে পঠিত লেখাগুলোর মধ্যে নিয়ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার একটি আয়োজন খুব স্পষ্ট নজড়ে পড়েছে; ভাষা নিয়ে, বাক্যভঙ্গি নিয়ে এবং শব্দের শুদ্ধতা ও চলতি প্রবণতা নিয়ে। কারো কারো লেখায় পুরনো বাংলা গদ্যের ছোঁয়া যেমন লক্ষ্যণীয় ছিল, তেমনি কারো কারো লেখায় ছিল বিস্তর ইংরেজি শব্দের ব্যবহার। একইভাবে প্রকরণগত নিরীক্ষাও ছিল কয়েকজনের লেখায়।

মোস্তফা তানিম পড়ে শুনিয়েছেন তার সাম্প্রতিকতম অণুকাব্য। একটা উদাহরণ দেয়া যাক- “অবশ্যম্ভাবী, একদিন হয়ে যাবে বুড়ি,/ পাশ দিয়ে হেঁটে যাবে লোকে-/ জানবেও না ছিলে কি দুর্দান্ত সুন্দরী!/ মৃত্যুর দরোজায় গিয়ে দাঁড়াই,/ তাকে যদিও খুলি না;/ জীবনের দরোজায় গিয়ে দাঁড়াই,/ তাকেও কিন্তু খুলি না।”

এসব প্রবণতার বাইরে অনেকের লেখাতেই উঠে এসেছে আদি ও অকৃত্রিম প্রেমের উচ্চারণ। যে প্রেমের কোন দেশকাল নেই, যার কোন শীত-বসন্ত নেই। তেমনই উন্মুখ কবিতা শোনালেন কবি মাহবুব হাসান সালেহ ও আনিস আহমেদ। উদাহরণ দেওয়া যাক, আনিস আহমদের কবিতা- “শীত বসন্তে উহ্য এ উত্তাপে অল্প স্বল্প কল্পলোকে বসবাস/ আমিও চাইনি নামাতে এ ব্যাধি, বাধ সাধো যতই তুমি আজ।/ … জ্যোৎস্নার জলে নিমজ্জিত ছিলাম, নিমগ্ন ও মনের আনন্দে/ ডুব সাঁতারে তোমার দক্ষ হৃদয় উঠে এলো ভিন্ন এক কূলে।”
মাহবুব হাসান সালেহ-এর কবিতা- অপরূপা ঘুমিয়ে আছে/ কৃষ্ণচূড়া বৃক্ষতলায়।/ অনাবৃতা অপরূপা,/ অনিন্দ্য সুন্দর।..অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি/ বিমূর্ত মগ্নতায়, অদম্য আকর্ষণে/ ফাগুনের বাতাসে/ আন্দোলিত বৃক্ষ।/ অবিরল ঝরে পড়া/ রক্তিম কৃষ্ণচূড়া।/ অনাবৃতা অপরূপা/ কৃষ্ণচূড়ায় আবৃতা।কবিতাপাঠের পাশাপাশি সেদিন চন্দ্রমুখী উপন্যাসের ওপর আলোচনা করেন আমীনুর রহমান। তিনি বলেন, চন্দ্রমুখী উপন্যাসের প্রধান বৈশিষ্ট্য লেখকের গল্পবুননের চমৎকারিত্ব ও ভাষার সাবলীলতা। তাছাড়া অস্থির রাজনীতির ঝাপসা প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিজীবন কী করে পরাজিত হয়, এ উপন্যাস তারই শব্দরূপ।অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে লালনের গান করেন দীনার। রবীন্দ্রসঙ্গীত করেন মুনমুন ও অনি। যুগল কবিতা আবৃত্তি করেন খায়রুজ্জামান লিটন ও শিমু। পূর্ণেন্দু পত্রী থেকে আবৃত্তি করেন তারেক ও অনি এবং শামসুর রাহমানের স্বাধীনতা তুমি আবৃত্তি করেন শওকত খান দীপু।

লেখক: শিক্ষক, জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়, ভার্জিনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র