শেষ হয়ে যাচ্ছে ২০১৮ বিশ্বকাপ। ৩য় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ জিতে নিল বেলজিয়াম। এখন শুধু ফাইনাল বাকী। তারপর আবার দীর্ঘ ৪ বছরের প্রতীক্ষায় থাকবে ফুটবলপ্রেমীরা।

বিশ্বকাপ ফাইনাল বিশ্বকাপের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। এই ম্যাচ জিতলেই ইতিহাসের পাতায় নাম লেখা হয়ে যায়। কত দেশ যে এই পর্যন্ত এসেও ইতিহাসের পাতায় নাম লিখতে পারে নি। সব থেকে অভাগা দলের নাম নেদারল্যান্ড। তিনবার ফাইনাল খেলেও অধরা শিরোপা ধরা দেয় নি। বিশ্বকাপ ছোয়া হয়নি ককসিস আর পুসকাসের হাঙ্গেরীর। আজও অনেকে বুঝে পায় না কিভাবে সেই দল বিশ্বকাপ জিততে পারল না। বিশ্বকাপের আগে পরে মিলে ২৯ খেলায় তারা হারল শুধু বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানীর কাছে তাও ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও। অথচ এই জার্মানীকেই তারা সেই বিশ্বকাপের গ্রুপের খেলায় ৮ গোল দিয়েছিল। ভাবা যায়!

১৯৫০ বিশ্বকাপ কি হৃদয়-বিদারকই না ছিল ব্রাজিলিয়ানদের জন্য! প্রায় ২ লাখ দর্শকের সামনে ড্র করলেই চ্যাম্পিয়ান হয়ে যায় সেখানে এগিয়ে থেকেও হেরে গেল ২-১ গোলে। সেই ব্রাজিলের গোলকিপার মৃত্যুর আগে মনে কষ্ট নিয়ে বলেন- মানুষ হত্যার সাজা হয় ২০ বছর, কিন্তু আমাকে সাজা ভোগ করতে হয়েছে ৪৪ বছর। ব্রাজিলের সব থেকে ঘৃণিত ব্যক্তি যে সেই ছিল! তবে বিশ্বকাপ ব্রাজিলকে মুখ দিরিয়ে দেয় নি। পেলের হাত দিয়ে বিশ্বকাপ পাওয়া শুরু ব্রাজিলিয়ানদের কাছে এখনও সব থেকে বেশি বিশ্বকাপ আছে।

সব থেকে বিতর্কিত বিশ্বকাপ ফাইনাল ধরা হয় ১৯৬৬ এর ফাইনাল। জার্মানীর গোলকিপার এখনও বলেন- ইংল্যান্ডের অতিরিক্ত সময়ের এগিয়ে যাওয়া গোলটি লাইন অতিক্রম করে নি, রেফারী ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন।

সব বিশ্বকাপ ফাইনাল যে উত্তেজনা এনেছে তাও না। খুব বিরক্তিকর কিছু ফাইনালও আছে। যেমন ১৯৯৪ বিশ্বকাপ ফাইনাল আর ২০১০ বিশ্বকাপ ফাইনাল। বিশ্বকাপ ফাইনাল হিসেবে সেদুটো দর্শকদের মন ভরাতে পারে নি।

আমার দেখা ফাইনালগুলোর মধ্যে এখনও আমি ১৯৮৬ এর বিশ্বকাপকেই এগিয়ে রাখব। ২ গোলে এগিয়ে থাকা আর্জেন্টিনাকে ২ গোল ফিরিয়ে দিয়েছিল জার্মানী। তারপর শেষের দিকে কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা। সেরকম আক্রমন প্রতি আক্রমন আর টেনশনে ভরা আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে চাই এবার।

মিলবে কি সেই রকম শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচের সাক্ষাত। অপেক্ষায় থাকলাম।