বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের জন্যই অপেক্ষা করা। প্রতিবারই এই ম্যাচকে ঘিরেই যত পরিকল্পনা। যত দলের প্রস্তুতি। বিশ্বকাপকে ঘিরে নানান আয়োজন এই ফাইনালটি ঘিরেই। তাই এই ম্যাচে থাকে আগুনের উত্তাপ। যে দল সেই উত্তাপে যে ধান বুনতে পারবে তারাই ফসল নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারবে।

এখানে ছাড়ের কোনও সুযোগ নেই। ছোট ছোট ভুল বড় খেসারত দিতে হতে পারে। অতীত ইতিহাস তাই বলে। জার্মানির সঙ্গে দুই গোলে এগিয়ে থেকেও পুসকাসের হাঙ্গেরি অবিশ্বাস্যভাবে হেরেছিল ফাইনালে। আবার দেখেছি ২ গোলে পিছিয়ে থেকে ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালে সমতায় ফিরেছিল জার্মানী। পরে অবশ্য ফিরে এসেছি ম্যারাডোনারা।

১৯৫০ সালে সেই ম্যারাকানা ট্রাজেডির কথা শুনেছি। উরুগুয়ের বিপক্ষে এগিয়ে থেকে ২-১ গোলে হেরেছিল ব্রাজিল। ২০০২ ধরুন। জার্মানীর বিপক্ষে ব্রাজিলের ফাইনালটি হচ্ছিল সমানে সমান। গোলরক্ষক অলিভার কানের সেই ছোট্ট ভুলে ডুবতে হলে জার্মানীকে। চ্যাম্পিয়ন হলো ব্রাজিল।

এবার তেমন কোনও ম্যাচ দেখতে চাই না। ভালো একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচ দেখবো আশা করছি।

ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্স দুই দলই আসলে বিশ্বকাপের দাবিদার। এ পর্যায়ে কাউকে এগিয়ে রাখার সুযোগ কম। টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত খেলেই ফাইনালে এসেছে সেই সোনালী ট্রফিটা ছুঁয়ে দেখবে বলে।

তবে, বিশ্লেষণে নামলে ফ্রান্সকেই এগিয়ে রাখবো। কেননা এ দলের নেই কোনও ইঞ্জুরি সমস্যা। জমাটবদ্ধ একটা ডিফেন্স। সক্রীয় মাঝমাঠ আর গতির আক্রমনভাগ ত্রিশুলে পরিণত হতে পারে। দেশমের নিশ্চয় একটা কৌশল বা পরিকল্পনা থাকবে ম্যাচটি ঘিরে। খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপ জয়ের নেতৃত্বে ছিলেন দেশম। সেই অভিজ্ঞতা দলের বড় সম্পদ হতে পারে।

অন্যদিকে, খুব কম বয়সে বিশ্বকাপের চূড়ায় আসা ক্রোয়েশিয়াও আছে দুর্দান্ত ফর্মে। তবে, মদ্রিচ-রাকিটিচ-মানজুকিচসহ বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই ভীষণ ক্লান্ত। টানা তিনটি ম্যাচ ১২০ মিনিট খেলতে হয়েছে তাদের। এদিকে পেরেসিচের একটু ইঞ্জুরি সমস্যাতো আছে। জ্লাতকো চাইবে ডিফেন্স ঠিক রেখে আক্রমনে যেতে। ঠিক অল আউট খেলবে না তারা। মাঝমাঠ দখল করে আক্রমনে যাওয়া কৌশলই থাকবে তাদের।

অন্যদিকে অল আউট খেলতে পারে ফ্রান্স। ডিফেন্স জমাটবদ্ধ। সঙ্গে টুর্নামেন্টজুড়ে ফ্যাভারিটদের হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে আছে। এমন ম্যাচে যারা আগে গোল পায় তারাই মূলত একটু এগিয়ে থাকে। গোল না খেলে তো কথাই নাই। ছোট ছোট ভুলগুলো করা যাবে না কোনও দলের। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইবে দুইদলই।

ইউরো আর বিশ্বকাপ জয়ের আত্মবিশ্বাস হয়তো একটু প্লাস পয়েন্টের যোগান দিবে ফ্রান্সের। তবে ক্রোয়েশিয়াও চাইবে তাদের ইতিহাস সমৃদ্ধ করতে। নতুন চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্ব মাতাতে।