ঐতিহ্য আর বিপ্লব তীর্থভূমি ফ্রান্সের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্বৈরাচারী সরকারের জুলুম আর নির‌্যাতনের প্রতীক বাস্তিল দূর্গ পতনের ইতিহাস। ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই অত্যাচারী রাজা ষোড়শ লুইয়ের আমলে ফরাসী বিপ্লবের মাধ্যমে এই কুখ্যাত বাস্তিল দূর্গের পতন ঘটে। তারপর থেকে দিনটিকে ফরাসী জনগণ মুক্তির দিন হিসেবেই পালন করতো। তবে এবছরে বাস্তিল দূর্গ পতনের দিনটির পরিপ্রেক্ষিত ফরাসিদের জন্য একটু আলাদাই। বিশ্বকাপের স্বপ্নে বুঁদ ফরাসিরা এই মুক্তির দিনের আনন্দ তুলে রাখতে চায় পরদিনের জন্য। কারণ ওইদিনেই যে দ্বিতীয়বার ফুটবল বিশ্বকাপ আসবে ফরাসীদের ঘরে!সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানাচ্ছে,সারাবিশ্বের অন্যরা অবশ্য ফরাসীদের এই আবেগের চিত্রটি ঠিক বুঝতে পারবেন না। কিন্তু উৎসবমুখর ফরাসি জাতির কাছে এখন এটিই সত্যি। দেশটির যুব ও কল্যানমন্ত্রী দ্যু যিয়ে বাসেক জানিয়েছেন- বাস্তিল দিবসে ফরাসি সেনাবাহিনী প্যারিস, মার্সেই, সঁসেলিজ, মঁপেলিয়ে, লিঁওসহ বড় শহরগুলোতে নিয়মিত প্যারেড করবে। সারাদেশের জনগণ উপভোগ করবেন ওই প্যারেড। আর তারপরই বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দুচোখে এঁকে ফরাসি ফুটবলপ্রেমীরা টিভি বা জায়েন্ট স্ক্রিনের সামনে বসে যাবেন।
ফ্রেঞ্চরা এখন বিশ্বকাপের স্বপ্নে এতোটাই বিভোর যে, গত দু’দিন ধরে ফ্রান্সের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের বিশতম বার্ষিকী উৎসব পালন করেছেন ফরাসি ফুটবলপ্রেমীরা। ১৯৯৮ সালের ১২ জুলাই স্বদেশে আয়োজিত বিশ্বকাপে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দিদিয়ের দেশমের নেতৃত্বে। ফাইনালে ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দেয় দিদিয়ের দেশমের দল। ইতিহাস গড়া ওই ফাইনালে  জিনেদিন জিদান ২টি আর পেটিট একটি গোল করেন।চলমান নিয়তি অথবা কাকতালের ধারাবাহিকতায় বিশ বছর পেরিয়ে এসেছে ২০১৮ সাল। রাশিয়ায় এবারের ফুটবল মহারণ। বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেছে সম্পূর্ণ নতুন একটি দল ক্রোয়েশিয়া। সেই ক্রোয়েশিয়া- যারা ১৯৯৮ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে এসেই সেমিফাইনালে উঠেছিল। ডেভর সুকার, ভনিমির বোবান, রবার্ট প্রসিনেকির সেই ক্রোয়েশিয়া এই ফ্রান্সের কাছেই ২-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিয়েছিল বিশ্বকাপ থেকে। ফরাসি উইং ব্যাক লিলিয়ান থুরামের একটি বুলেট শট সেইবার ক্রোয়েশিয়ার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন চুরচুর করে দিয়েছিল।এবারে লুকা মদ্রিচ, ইভান রাকিটিচ, মারিও মান্ডুকিচ, পেরেসিচ, সুবাসিচরা ক্রোয়েশিয়াকে তুলে এনেছেন আরো একধাপ ওপরে। একেবারে ফাইনালে। সামনে সেরা যুদ্ধটিই। হারুক বা জিতুক- ক্রোয়েশিয়া দলটির সামনে ইতিহাসের অংশ হওয়ার হাতছানি।